অ্যাপেন্ডিসাইটিস
উইকিপিডিয়া থেকে, বিনামূল্যে একটি বিশ্বকোষ
অ্যাপেন্ডিসাইটিস (ইংরেজি: Appendicitis) হলো ভার্মিফর্ম অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ সাধারণ লক্ষণসমূহ হল তলপেটের ডানদিকে ব্যথা, জ্বর, বমি ইত্যাদি। তবে ৪০% ক্ষেত্রে রোগী সবগুলো লক্ষণ নিয়ে আসে না।[২] অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেলে পুরা পেটে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং উদর আবরণী বা পেরিটোনিয়ামের প্রদাহ হয় ও সেপসিস হতে পারে।[৩]
অ্যাপেন্ডিসাইটিস | |
---|---|
প্রতিশব্দ | epityphlitis[১] |
![]() | |
বিশেষত্ব | সাধারণ অস্ত্রোপচার |
অ্যাপেন্ডিক্স এর গহ্বর বা লুমেন কোনো কারণে বন্ধ হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়[৪] যেমন ফিকালিথ ( Fecalith) বা মল দিয়ে তৈরি ক্যালসিফাইড পাথর, পরজীবী, পিত্তাশয় পাথর, টিউমার ইত্যাদি লুমেন বন্ধ করে দিতে পারে।[৫] ফলে অ্যাপেন্ডিক্সের টিস্যুতে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে সহজেই ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হয়।[৫][৬] প্রদাহের ফলে অ্যাপেন্ডিক্স অনেক ফুলে যায় ফলে এর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মরে যেতে থাকে।[৭] যথাসময়ে চিকিৎসা প্রদান না করলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়ে ব্যাক্টেরিয়া পুরা পেটে ছড়িয়ে পড়ে, তীব্র ব্যথা হয়।[৭][৮]
রোগীর লক্ষণসমূহ পর্যবেক্ষণ করেই অনেকাংশে রোগ নির্ণয় সম্ভব।[৬] রোগের লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব না হলে রেডিওগ্রাফিক চিত্র যেমন সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।[৯] এক্ষত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফির তুলনায় সিটি স্ক্যান বেশি নির্ভুল। [১০] তবে শিশু ও গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড পছন্দনীয় কারণ সিটি স্ক্যানে তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।[৯]
এই রোগের প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে অ্যাপেন্ডিসেক্টোমি বা শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলা।[৫][৬] ল্যাপারোটোমি বা ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে এই অপারেশন করা যায়। দ্রুত সার্জারি এই রোগের জটিলতা বা অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা কমিয়ে আনে।[৩] অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এক্ষত্রে ইনফেকশন কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।[১১] তীব্র পেটব্যথার সবচেয়ে প্রধান কারণ এটি। ২০১৩ সালে সারাবিশ্বে প্রায় ১৬ মিলিয়ন ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হয়।[১২] এবং ৭২০০০ জন মৃত্যু বরণ করে।[১৩]
তথ্যসূত্র
বহিঃসংযোগ
Wikiwand - on
Seamless Wikipedia browsing. On steroids.