বিচিত্র বীণা

উইকিপিডিয়া থেকে, বিনামূল্যে একটি বিশ্বকোষ

বিচিত্র বীণা

বিচিত্র বীণা (সংস্কৃত: विचित्र वीणा হল একটি দণ্ড বাদ্যযন্ত্র। এটি হিন্দুস্তানী সংগীতে ব্যবহৃত একটি তন্তু বাদ্যযন্ত্র। কর্ণাটকী সঙ্গীতের গোট্টুবাদ্যমের (চিত্রা বীণা) মত এর কোনও ফ্রেট নেই এবং এটি একটি স্লাইড দিয়ে বাজানো হয়।[১]

Thumb
বিচিত্রা বীণা বাদনে গোপাল কৃষ্ণ

গঠন

বিচিত্রা বীণা প্রাচীন একতন্ত্রী বীণার আধুনিক রূপ।[২] এটি একটি বিস্তৃত, ফ্রেট বিহীন, অনুভূমিক বাহু বা ক্রসবার (দণ্ড) দিয়ে তৈরি। এটি প্রায় তিন ফুট দীর্ঘ এবং ছয় ইঞ্চি চওড়া। হাতির দাঁত দিয়ে সজ্জিত দুটি বৃহৎ অনুরণনক (শুকানো লাউ থেকে তৈরি, টুম্বা) দুই প্রান্তের নীচে সংযুক্ত থাকে। বাদ্যটির সরু প্রান্তগুলি, ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূয়ের মাথার অনুকরণে তৈরি করা হয়।

তন্তু

এতে চারটি মূল বাদন তন্তু এবং পাঁচটি সহায়ক তন্তু (চিকারি) রয়েছে, যেগুলিকে গুঞ্জন প্রভাব আনার জন্য কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে বাজানো হয়। তাদের নিচে উপযুক্ত রাগের পর্দায় সুরযুক্ত ১৩টি সাহায্যকারী তন্তু রয়েছে। এই বীণাতে পাঁচটি অষ্টক পর্যন্ত বাজানো যায়। সেতারে যেমন ব্যবহার হয়, তেমন দুটি মিজরাব বাদকেরা তাঁদের ডান হাতের মধ্যমা এবং তর্জনী আঙ্গুলে পরেন। বাম হাত দিয়ে একটি কাচের বল (বাট্টা) প্রধান তন্তুগুলির ওপর দিয়ে চালনা করিয়ে সুর সৃষ্টি করা হয়। বাট্টা চেপে থাকা চলমান হাতের ঘর্ষণকে হ্রাস করতে তন্তুগুলিতে নারকেল তেল লাগানো হয়।

বীণা প্রায়শই ধ্রুপদ গানের শৈলীর সাথে সঙ্গত করতে ব্যবহৃত হত এবং সেজন্য ধ্বনির চারপাশে খুব বেশি নিগূঢ়তা বা অলঙ্করণ করা যেতনা। এই বাদ্যযন্ত্রকে বিস্মৃত হওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন লালমণি মিশ্রা। তিনি মিশ্রবাণী রচনা তৈরি করেছিলেন এবং সেটি বাজানোর কৌশল উদ্ভাবন করেছিলেন। তাঁর পুত্র গোপাল শঙ্কর মিশ্র এই সম্ভারটিকে সার্বজনীন করেছিলেন।

বাদক

সারাংশ
প্রসঙ্গ
  • গোপাল কৃষ্ণ, (১৯২৬ - ২০০৪) নন্দ কিশোর শর্মার শিষ্য। রাগের গভীর উপলব্ধি এবং বিভিন্ন জটিল সংগীতের নিদর্শনের বয়ন ও এর ছন্দময়

সমলয় বিধান দ্বারা একটি গভীর উপস্থাপনা ছিল তাঁর বিশেষত্ব। তিনি "ঝালা" নামক একটি কৌশলে (এই যন্ত্রটিতে বাজানো খুব কঠিন) দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

  • লালমণি মিশ্র, (১৯২৪ - ১৯৭৯) একজন সম্পূর্ণ দক্ষ শিল্পী। তিনি খেয়াল ও ঠূংরিকে আরও ভাল মানে পরিবেশনের জন্য বাদ্যযন্ত্রটিতে পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি বীণায় দাদরাও বাজিয়েছিলেন। তিনি অসংখ্য রাগ তৈরি করেছিলেন, সেগুলির মধ্যে মধুকালি সর্বাধিক বিখ্যাত। তিনি উস্তাদ আবদুল আজিজ খান দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
  • গোপাল শঙ্কর মিশ্র, (১৯৫৭ - ১৯৯৯) লালমণি মিশ্রের পুত্র এবং ছাত্র।
  • রাগিনী ত্রিবেদী (জন্ম ১৯৬০)
  • ব্রহ্ম সরূপ সিং, (১৯৪০ - ১৯৯৮) একজন খ্যাতিমান বিচিত্রা বীণা বাদক ছিলেন। কম বয়সে ব্রহ্ম সরূপ সিং তাঁর পিতা শ্রী হরনাম সিংয়ের কাছে সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি উত্তরের বেশ কয়েকটি সংগীত সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁর বিচিত্রা বীণা বাদন ১৯৫৮ সাল থেকে জলন্ধরের আকাশবাণী প্রচার করছে।[৩]
  • অনুরাগ সিং (জন্ম ১৯৬৬) বিচিত্রা বীণার একজন খ্যাতিমান বাদক। তিনি প্রয়াত শ্রী ব্রহ্ম সরূপ সিংয়ের পুত্র এবং তিনি ভারতের অমৃতসর শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিসার, কুরুক্ষেত্র, যমুনানগর, আম্বালা, গুজরাত, পাঁচকুলা, গুড়গাঁও, কলকাতা, লখনৌ, জামশেদপুর এবং পাটনায় অসংখ্য সঙ্গীতানুষ্ঠান করেছেন।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

Wikiwand - on

Seamless Wikipedia browsing. On steroids.