বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলা
কর্ণাটকের একটি জেলা উইকিপিডিয়া থেকে, বিনামূল্যে একটি বিশ্বকোষ
বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলা, বা ব্যাঙ্গালোর গ্রামান্তর, হলো দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের একটি জেলা৷ এটি কর্ণাটকের চারটি প্রশাসনিক বিভাগের বেঙ্গালুরু বিভাগের অন্তর্গত৷ ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে পূর্বতন বেঙ্গালুরু জেলা দ্বিখণ্ডিত করে বেঙ্গালুরু নগর ও বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলা দুটি গঠন করা হয়৷ জেলাটির উত্তর দিকে চিকবল্লাপুর জেলা, পূর্ব দিকে কোলার জেলা, দক্ষিণে বেঙ্গালুরু নগর জেলা, দক্ষিণ পশ্চিমে রামনগর জেলা ও উত্তর পশ্চিমে তুমকুর জেলা রয়েছে৷
বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলা ಬೆಂಗಳೂರು ಗ್ರಾಮಾಂತರ ಜಿಲ್ಲೆ | |
---|---|
জেলা | |
![]() কেম্পেগৌড়া আন্তৰ্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তোলা নিকটবর্তী দেবনহাল্লির চিত্র | |
![]() কর্ণাটকে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার অবস্থান | |
স্থানাঙ্ক: ১৩.২৮০৬০২° উত্তর ৭৭.৬২২৬০৭° পূর্ব | |
রাষ্ট্র | ভারত |
রাজ্য | কর্ণাটক |
তালুক | দেবনহাল্লি, দোড্ডবল্লাপুর, হোসকোটে, নেলমঙ্গলা |
সরকার | |
• ডেপুটি কমিশনার | পি এন রবীন্দ্র, আই.এ.এস |
আয়তন[১] | |
• মোট | ২,২৯৮ বর্গকিমি (৮৮৭ বর্গমাইল) |
জনসংখ্যা (২০১১)[১] | |
• মোট | ৯,৯০,৯২৩ |
• জনঘনত্ব | ৪৩০/বর্গকিমি (১,১০০/বর্গমাইল) |
ভাষা | |
• দাপ্তরিক | কন্নড় |
• সহ-দাপ্তরিক | ইংরাজী |
সময় অঞ্চল | ভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+৫:৩০) |
Telephone code | + ৯১-৮০ |
যানবাহন নিবন্ধন |
|
ওয়েবসাইট | bangalorerural |
বর্তমানে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলাটিতে একটি মহকুমা, চারটি তালুক, কুড়িটি হোব্লি (গ্রামসমষ্টি), ১,০৬৫ টি জনাধিষ্ঠিত গ্রাম, ৫টি শহর ও ৬৬ টি গ্রামপঞ্চায়েত রয়েছে৷ বৃহত্তর শহর বেঙ্গালুরুর অতিনিকটে অবস্থানের কারণে শহুরে প্রভাব ও সাধারণের দৈনিক যাতায়াত লক্ষণীয়৷ গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী জনসংখ্যার একটি বড় অংশ চাষাবাদ ও কৃষিজ শিল্পের সাথে যুক্ত, এছাড়াও জেলাটি একটি বিশেষ অর্থনৈতিক বলয়ের মধ্যে পড়ে৷ সম্প্রতি প্রযুক্তিসহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতির কারণে চাকুরিজীবির সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটে অবস্থিত দেবনহাল্লিতে ৯৫ বিলিয়নের দেবনহাল্লি ব্যবসায়িক উদ্যান রয়েছে৷ [২]
কর্ণাটক সরকার বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলাটির নাম বদল করে কেম্পেগৌড়া নতুন নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে এই জেলাটির থেকে কনকপুরা, রামনগর, মাগড়ি এবং চান্নপত্তন তালুকগুলি নিয়ে নতুন রামনগর জেলা গঠন করেন৷
অর্থনীতি
জেলাটিতে কৃষিজ ও এবং কৃষি সংক্রান্ত ছাড়াও উদ্যানপালিত ফসল যেমন; রাগী, চাল, চিনাবাদাম, রেড়ী, আঙুর, মালবেরি প্রভৃতি চাষ হয়ে থাকে। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিল্প সংস্থান যেমন পরিবহন ও যোগাযোগ, ব্যাংকিং, ক্রেডিট এবং মার্কেটিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জেলাটি খনিজ সম্পদেসমৃদ্ধ না হলেও অন্যান্য অধাতব শিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইট, টাইলস এবং স্টোনওয়্যার প্রভৃতি প্রস্তুতকারক সংস্থা রয়েছে। একটি বৃহৎ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা বস্ত্রশিল্পকে নিজেদের আর্থিক উন্নতির পাথেয় করেছেন। বৃষ্টিপাত মৃত্তিকা এবং আবহাওয়া কৃষিজ দ্রব্যের পাশাপাশি মালবেরি চাষ, রেশম চাষ করার জন্য যথেষ্ট মনোরম। একাধিক মাদক (ওয়াইন) প্রস্তুতকারক সংস্থা থাকায় জেলাটিতে প্রচুর পরিমাণে ক্রমবর্ধমান হারে ওয়াইন উৎপাদন হয়। মূলত কৃষিজ জেলা হলেও দুগ্ধ উৎপাদন প্রযুক্তি সংক্রান্ত শিল্পবিদ্যা এবং রেশম চাষের জন্য জেলাটি খ্যাতি লাভ করেছে।
জনতত্ত্ব
সারাংশ
প্রসঙ্গ
রামনগর পৃথক জেলা ঘোষণা করার পূর্বে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের জেলাটির মোট জনসংখ্যা ছিল ১৮,৮২,৫১৪ জন যার মধ্যে ২১.৬৫% শহরবাসী এবং বাকি গ্রামীণ জনসংখ্যা। [৩] জেলাটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০৯ জন বাস করতেন এবং এখানে বসবাসরত ২২.৫% লোক তপশিলি জাতি এবং তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত ছিলেন। জেলাটিতে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
বছর | জন. | ব.প্র. ±% |
---|---|---|
১৯০১ | ২,২৬,৩৪১ | — |
১৯১১ | ২,৩৮,২৯৩ | +০.৫২% |
১৯২১ | ২,৩৮,৭৮৩ | +০.০২% |
১৯৩১ | ২,৬২,৮৮৫ | +০.৯৭% |
১৯৪১ | ২,৯৫,৩৯৯ | +১.১৭% |
১৯৫১ | ৩,৫৮,১০৬ | +১.৯৪% |
১৯৬১ | ৪,০৬,৮২৮ | +১.২৮% |
১৯৭১ | ৪,৮৪,৯৪৭ | +১.৭৭% |
১৯৮১ | ৬,০৮,৫৩৫ | +২.৩% |
১৯৯১ | ৭,১৭,৫২৫ | +১.৬৬% |
২০০১ | ৮,৫০,৯৬৮ | +১.৭২% |
২০১১ | ৯,৯০,৯২৩ | +১.৫৩% |
উৎস:[৪] |
সমগ্র কর্ণাটক রাজ্যে ৩০ টি জেলার জনসংখ্যার বিচারে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলাটির জনসংখ্যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, কোড়গু জেলার পরেই।[৫]
২০১১ খ্রিস্টাব্দে সর্বশেষ জনগণনা অনুসারে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলাটির মোট জনসংখ্যা ৯,৯০,৯২৩ জন,[৫] যা ফিজি রাষ্ট্রের জনসংখ্যা [৬] বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যে জনসংখ্যার সমতুল্য। [৭] ২০১১ খ্রিস্টাব্দ অবধি ভারতের ৬৪০ টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যার বিচারে এই জেলা ৪৪৯তম স্থান দখল করেছে।[৫] জেলাটির জনঘনত্ব ৪৪১ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (১,১৪০ জন/বর্গমাইল)। [৫] ২০০১ থেকে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই জেলাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৬.০২ শতাংশ।[৫] প্রতি হাজার পুরুষে জেলাটিতে ৯৪৫ জন নারী বাস করেন। [৫] জেলা টি সর্বমোট সাক্ষরতার হার ৭৭.৯৩ শতাংশ, যেখানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৮৪.৮২ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৭০.৬৩ শতাংশ।[৫]
তথ্যসূত্র
Wikiwand - on
Seamless Wikipedia browsing. On steroids.